Wednesday, July 18, 2018

ইসলাম ও ধর্ম



ঘুম থেকে ওঠার পর যে কারণে দোয়া পড়বেন

প্রবাদ আছে, ‘ঘুম আর মৃত্যু সমান কথা’। কিন্তু এ প্রবাদবচন প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদিসেও প্রমাণিত। তিনি মানুষকে ঘুমাতে যাওয়ার আগে এভাবে দোয়া করতে বলেছেন, ‘আল্লাহুম্মা বিসমিকা আ’মু-তু ওয়া আ’হইয়া। অর্থাৎ ‘হে আল্লাহ! তোমারই নামে আমি মৃত্যুবরণ করছি এবং তোমারই অনুগ্রহে জীবিত হব।’ (বুখারি)
যেহেতু মানুষ ঘুমের মাধ্যমে কিছু সময়ের জন্য মৃত্যুবরণ করে; আবার আল্লাহর অনুগ্রহে জীবিত হয়। তাই সাময়িক ঘুম নামক মৃত্যু থকে জেগে ওঠার কারণেই আল্লাহর শোকরিয়া আদায় এবং দোয়া করা প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য জরুরি।
ঘুম থেকে ওঠার পর মানুষ যে কারণে আল্লাহ তাআলার শোকরিয়া আদায় করবে এবং নিজেদের জন্য দোয়া করবে তা হাদিসে পাকে প্রিয়নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুস্পষ্ট করেছেন।
তাই প্রত্যেক ব্যক্তির উচিত ঘুম থেকে ওঠার পর প্রিয়নবির শিখানো এ দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা শোকরিয়া আদায় এবং নিজেদের জন্য দোয়া করা জরুরি। দোয়াটি হলো-
اَلْحَمْدُ لِلّهِ الَّذِىْ عَافَانِىْ فِىْ جَسَدِىْ – وَرَدَّ عَلَىَّ رُوْحِىْ – وَأَذِنَ لِىْ بِذِكْرِهِ
উচ্চারণ : ‘আল-হামদুলিল্লাহিল্লাজি আ’ফানি ফি ঝাসাদি, ওয়া রাদ্দা আলাইয়্যা রুহি, ওয়া আজিনালি বি-জিকরিহি’
অর্থ : সব প্রশংসা সেই আল্লাহর জন্য, যিনি আমার দেহকে (ক্ষয়-ক্ষতি, অসুখ-বিসুখ থেকে) সুস্থ রেখেছেন, আমার রূহ আমার কাছে ফেরত পাঠিয়েছেন এবং আমাকে তাঁর জিকির করার জন্য অবকাশ দিয়েছেন।’
উল্লেখিত শোকরিয়া ও দোয়া থেকে বুঝা যায়, আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক মানুষকে ঘুমের মাধ্যমে কিছু সময়ের জন্য জীবন নিয়ে নেন। আবার কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই ঘুমের সময়টিতে তাকে সুস্থ রাখছেন। আবার রূহ ফেরত দেয়ার মাধ্যমে তাকে ঘুম থেকে জাগ্রত করেন।
মানুষ জাগ্রত হওয়ার পর আল্লাহ তাআলার জিকির-আজকার, হুকুম-আহকাম পালন করে থাকেন। আর এ কারণেই মানুষ ঘুম থেকে ওঠে মহান রাব্বুল আলামিনের শোকরিয়া আদায় করে থাকেন। এ শোকরিয়া আদায় করতে পারা মুমিন মুসলমানের জন্য অনেক বড় নেয়ামত।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে ঘুম থেকে ওঠে তার শোকরিয়া আদায় করতে উল্লেখিত দোয়াসহ তাঁর জিকির-আজকার ও হুকুম-আহকাম যথাযথ পালন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

Tuesday, July 3, 2018

মতামত

 আনিসুল হক আছেন আমাদের সঙ্গেই

 রুবানা প্রিয় বন্ধু,
আমরা তোমার পাশে আছি সব সময়। যদিও তোমার পাশে ব্যাপক একটা পরিসরের মধ্যে ছিলেন আনিসুল হক, আনিস ভাই। তিনি মেয়র হওয়ার বহু আগে থেকেই আমাদের ঘনিষ্ঠ প্রিয়জন ছিলেন। তিনি আজ চলে গেলেন। তবু তিনি আছেন আমাদের সঙ্গে, তোমার সঙ্গে।
রুবানা, তোমার সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠ-বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিল লেখাপড়ার সূত্রে। তুমি ইংরেজি সাহিত্যের নিবিষ্ট পাঠক, সৃষ্টিশীল চিন্তার একজন সার্বক্ষণিক কর্মী। আমি বাংলা সাহিত্যের পাঠক, লেখালেখি করি। গবেষণার একটা ছোট্ট সূত্র পেলেই উৎসাহে ছটফট করি। তোমার সঙ্গে কথার সূত্রে বারবার বলতে থাকি তুমি যেন ইংরেজি সাহিত্য বিষয়ে বা তোমার প্রিয় কোনো বিষয়ে ‘পিএইচডি’ করো। তুমি নিজেও ভাবছিলে। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (কলকাতায়) গবেষণা শুরু করলে। আমি ফোনে, সাক্ষাতে তোমার গবেষণার কাজটির জন্য চাপ দিতে থাকি। তুমি আনিস ভাইয়ের সহযোগিতায় এগিয়ে চললে। গবেষণা শেষ করলে।
তুমি সানন্দে দায়িত্ব নিয়েছ গার্মেন্টস কোম্পানি মোহাম্মদীয়া গ্রুপের সব কর্মী, গার্মেন্টস শ্রমজীবী পরিবারের শিশুদের। সকাল থেকে রাত অবধি সেই ব্যবসা সামলাচ্ছ, আনন্দের সঙ্গে শিশুদের লেখাপড়া, খাওয়াদাওয়া, জীবনচর্চার দায়িত্ব পালন করছ।
তোমার শিশুপুত্রটির জীবন-মরণের তীব্র বেদনায় নীল হয়ে যাওয়ার মুহূর্তেও তুমি অবিচল ছিলে। কিন্তু শিশুসন্তানকে চিরতরে নীলিমার নীল আকাশের উজ্জ্বল তারা হয়ে যেতে দেখে রুদ্ধবাক হয়ে গেলে। সেই শিশুকে খুঁজে পাচ্ছ গার্মেন্টস কর্মীদের শিশুদের মধ্যে। তুমি সব শিশুর মা হলে।
রুবানা, তোমার ব্যক্তিজীবন, কর্মজীবন, সাংস্কৃতিক-সংস্কৃতি-সাহিত্যচর্চার জীবন আমার বিস্ময় জাগায়। আনিস ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়ে উৎসাহ দিয়ে, পরামর্শ দিয়ে, সমালোচনা করে, সহযোগিতা করে তুমি যখন কখনো গর্বে, কখনো চিন্তায়, কখনো বেদনায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে যেতে তখনো আমি দেখেছি-জেনেছি তুমি ধীরস্থির কর্মব্যস্ত থেকেছ। তোমাকে আমি খুব আপন ভাবি, ভালোবাসি। সেই তুমি এখন সুদূর লন্ডনে তীব্র বেদনায় নীল হয়ে যাচ্ছ সহযোগী, বন্ধু, স্বামী আনিসুল হক, আমাদের প্রিয় মেয়র আনিসুল হকের প্রয়াণে।
আমরা আনিস ভাইয়ের শুভানুধ্যায়ীরা তোমার পাশে আছি। আনিস ভাই আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকবেন তাঁর কর্মে, চিন্তায়। আমাদের চোখের সামনে তিনি আর থাকবেন না। কিন্তু বেঁচে থাকবেন আমাদের হৃদয়ে। আমরা তোমার পাশে আছি, রুবানা।

ঔষধী গাছ

নয়ন তারা ফুলের কিছু ঔষধি গুনাগুন

পৃথীবির যত সৃস্টি রয়েছে সবকিছুই মানুষের নিমিত্তে। প্রাণী জগৎ এবং উদ্ভীদ জগৎকে “আল্লাহ তায়ালা” মানুষের সেবার জন্য দান স্বরুপ। মানুষ উদ্ভীদ হতে যে উপকার গুলো গ্রহণ করে তার মধ্যে নয়ন তারা ফুল ও গাছ চিকিৎসার জন্য অন্যতম। এই নয়ন তারা গাছ ও ফুল থেকে আমরা অনেক পুস্টিগুণ ও ঔষধী গুণ গ্রহণ করতে পারি। আজকে আমরা আলোচনা করব এই নয়ন তারা গাছ ও ফুলের ভেষজ গুণাবলি নিয়ে।
নয়ন তারা গাছ ও ফুলের নানাবিধ ঔষধী গুণ রয়েছে তার মধ্যে আমরা কয়েকটি ঔষধী গুণ নিয়ে আজ আলোচনা করব।
নয়ন তারা গাছ ও ফুলের ভেষজ গুণাবলিঃ
১.ডায়বেটিস সারাতে নয়ন তারাঃ
ডায়বেটিস সারাতে নয়ন তারা ফুলের ভুমিকা অন্যতম। নয়ন তারা গাছের ফুল, মুল শুকনো হলে ১ গ্রাম আর কাঁচা হলে ২ গ্রাম সংগ্রহ করে নিন। রাতে আনুমানিক ১ কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পানিটা ছেঁকে নিয়ে জাল করে আধা কাপ করে নিন। এই আধা কাপ পানি অর্ধেক করে সকাল ও রাতে পান করুন। তাতে ডায়বেটিস রোগীরা ভাল ফল পাবেন।
২.কৃমি রোগেঃ
কৃমি রোগ সারাতেও এই নয়ন তারা ফুল, মুল ও পাতা বিশেষ কার্যকরী। উপরোল্লেখিত উপায়ে ৫/৬ দিন পান করলে কৃমি রোগ সেরে যায়। তবে ৮/১০ দিন পান করলে সবচেয়ে ভাল ফল পাওয়া যায়। তবে বাচ্চাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
৩.মেধা শক্তি বৃদ্ধিতেঃ
যাদের মেধা শক্তি দুর্বল যেমন সকালের কথা বিকালে মনে থাকে না। তারা এই নয়ন তারা ফুল, মূল ও পাতা ২ গ্রাম পরিমাণ ১ কাপ পানিতে সিদ্ধ করে নিন। পানিটুকু ছেঁকে আবার জাল করে আধা কাপ করে নিন। জাল করা পানি অর্ধেক করে সকাল-বিকাল টানা ১ মাস পান করলে স্বরণশক্তি বৃদ্ধি পায়।
৪.লিউকেরিয়া রোগে নয়ন তারার গুরুত্বঃ
এটি একটি রক্ত বহ রোগ। এ রোগের ফলে মহিলারা সাধারণত দুর্বল হয়ে পড়ে। এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে হলে অথবা এ রোগ সারাতে নয়ন তারা পুরোপুরি সক্ষম।
৫.রক্তচাপ বৃদ্ধিতে নয়ন তারাঃ
রক্তচাপ বৃদ্ধিতে নয়ন তারা ফুল, মূল, পাতা বিশেষ ভাবে কার্যকরী।
৬.সন্ধি বাত বা গিটে ব্যাথাঃ
যাদের বাতের ব্যাথা রয়েছে বা গিটে ব্যাথা রয়েছে তারা এই নয়ন তারা ফুল, মূল ও পাতা সেবন করলে অল্প কয়েকদিনে বাতের ব্যাথা ভাল হয়ে যাবে।
৭.অনিয়মিত মাসিকঃ
এটি একিটি জটিল রোগ এ রোগে অনেক মহিলা ভুগে থাকে। যে সকল মহিলাদের অনিয়মিত মাসিক হয় তারা এই নয়ন তারা গাছ ব্যাবহার করে এ রোগ থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
৮.ক্যান্সার প্রতিরোধে নয়ন তারাঃ
ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে যত ভেষজ উদ্ভীদ রয়েছে তার মধ্যে নয়ন তারা গুণাগুণ সবচেয়ে বেশী। নয়ন তারা গাছ দিয়ে বর্তমান বিশ্বে অনেক ঔষধ কোম্পানী ক্যান্সারের ঔষধ তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে।
যে সকল রোগের জন্য নয়ন তারা গাছের ভেষজ গুণ নিয়ে উপরে আলোচনা করা হয়েছে সবগুলো রোগের ক্ষেত্রে নয়ন তারা গাছের ব্যাবহার সঠিকভাবে করতে হবে। নিম্নে ব্যাবহারবিধি দেওয়া হল...
নয়ন তারা গাছের ফুল, মুল শুকনো হলে ১ গ্রাম আর কাঁচা হলে ২ গ্রাম সংগ্রহ করে নিন। রাতে আনুমানিক ১ কাপ পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। সকালে পানিটা ছেঁকে নিয়ে জাল করে আধা কাপ করে নিন। এই আধা কাপ পানি অর্ধেক করে সকাল ও রাতে পান করুন।

কোন গোলাপ কিসের প্রতীক

  ভালোবাসার ফুল গোলাপ। এটি ভালোবাসার ভাষা বুঝতে ও বোঝাতে পারে। তাই উপহার হিসেবে গোলাপেরই চাহিদা এখন সবার উপরে। লাল গোলাপ প্রেমের কবিতা আর গল...