Thursday, August 27, 2020

আশুরার রোজা ২৯-৩০ আগস্ট



সম্মানিত মাস মহররম। ১৪৪২ হিজরি সনের এবার আশুরা হবে ৩০ আগস্ট রোববার। সে হিসেবে রোজা রাখতে হবে ২৯-৩০ আগস্ট মোতাবেক শনি ও রোববার।

এ মাসের অন্যতম আমল রোজা পালন করা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আশুরায় নিজে রোজা রেখেছেন এবং সাহাবাদের রোজা রাখতে বলেছেন। বর্ণনা করেছেন আশুরার রোজার অসামান্য ফজিলত ও মর্যাদা।

এ মাসকে সম্মান দেখানোর অন্যতম কারণ হলো- মাসটির নাম ’মহররম’। এর অর্থ- সম্মানিত। আর হাদিসেও এ মাসটিকে আল্লাহর মাস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এটি (মহররম) শাহরুল্লাহ তথা আল্লাহর মাস।’ (মুসলিম)

আশুরার রোজার ফজিলত বর্ণনা করে হজরত আবু কাতাদাহ আনসারি রাদিয়াল্লাহু আনহুর বর্ণনায় এসেছে-
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আশুরার রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘আশুরার রোজা বিগত এক বছরের গোনাহের কাফফারাহ হবে।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমাদ)

আশুরার রোজা রাখার কারণ বর্ণনা ও নির্দেশ
হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় এসে দেখলেন, ইয়াহুদিরা আশুরার দিন রোজা পালন করছে। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, এটা কিসের রোজা?
তারা (ইয়াহুদিরা) বলল, এটা একটা উত্তম দিন। আল্লাহ তাআলা এ দিন বনি ইসরাইল জাতিকে তাদের দুশমন (ফেরাউন)-এর আক্রমণ থেকে নিরাপদ করেছেন। তাই (হজরত) মুসা আলাইহিস সালাম এ দিন রোজা রেখেছিলেন।
তখন নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের চেয়ে আমিই (হজরত) মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর (আদর্শ পালনে) বেশি হকদার। কাজেই তিনি নিজে আশুরার রোজা রাখলেন এবং অন্যদেরকেও রোজা রাখতে বললেন।’ (বুখারি,মুসলিম, ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ, মুসনাদে আহমাদ, বায়হাকি)

আশুরার রোজা
বিশ্বনবির নির্দেশনা অনুযায়ী আশুরার রোজা রাখার সময়টি ঘনিয়ে এসেছে। ১০ মহররম ঠিক রে

খে আগের কিংবা পরের দিন মিলিয়ে নেয়া উত্তম। সে হিসেবে চাইলে ২৯-৩০, শনি ও রোববার রোজা রাখা যায়। আবার চাইলে ৩০-৩১ আগস্ট রোববার ও সোমবার রোজা রাখা যায়।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আশুরার এ রোজা পালনের মাধ্যমে বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশ পালন করার তাওফিক দান করুন। বিগত এক বছরের গোনাহ থেকে মুক্ত করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

 
 
 
 


Thursday, August 20, 2020

Dexamethasone is the first life-saving drug to treat corona

  

Dexamethasone is the first life-saving drug in the treatment of corona. The first life-saving drug was found in Corona.

Dexamethasone, a cheap and widely available drug, could save the lives of critically ill people infected with corona, according to UK experts.

This information was given in a report of the international media BBC on Tuesday (June 18).

UN experts say this low-dose steroid treatment is a breakthrough in the fight against the deadly virus. Using this drug can reduce the risk of death in patients on ventilators by one third. And for those who are being treated with oxygen, the death rate can be reduced by one-fifth.

The drug was seen as part of the world's largest trial or coronavirus treatment. The study was conducted by a team of researchers from Oxford University. Dexamethasone was applied experimentally to about 2,000 corona patients admitted to the hospital. Analyzing the results, it was found that the risk of death in patients with ventilation was reduced from 40 percent to 28 percent. And in patients who need oxygen, the risk of death is reduced from 25 percent to 20 percent.

Peter Harbi, a lead researcher and professor at Oxford University's research team, said it was the only drug that had been shown to reduce mortality and actually reduce it significantly. This is an important discovery. According to lead researcher and professor Martin Landrey, the results of the study showed that dexamethasone can save the life of one in every 7 patients who need a ventilator. And for every 20 to 25 patients who need oxygen, one patient's life can be saved.

অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়েও বেশি কার্যকরী মধু: গবেষণা

অ্যান্টিবায়োটিকের চেয়েও বেশি কার্যকরী মধু: গবেষণা

মধু অতিপরিচিত একটি প্রাকৃতিক উপাদান, যা বিশ্বের প্রায় সব দেশেই পাওয়া যায়। প্রাচীনকাল থেকেই এই উপাদানটি ভেষজ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে।  আধুনিক বিজ্ঞানও এবার এই মধুর গুণাগুণ নিয়ে দিল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।

নতুন একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, সর্দি-কাশির চিকিৎসায় প্রচলিত বিভিন্ন ওষুধ এবং অ্যান্টিবায়োটিকের তুলনায় মধু বেশি কার্যকরী।

মধু সস্তা, সহজলভ্য এবং এর তেমন কোনও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় বলেন, ‘সর্দি-কাশির জন্য চিকিৎসকরা রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে মধু খাওয়ার জন্য সুপারিশ করতে পারেন।’

আপার রেসপিরেটরি ট্রাক্ট ইনফেকশন (ইউআরটিআই) নাক, গলা, কন্ঠস্বর এবং শ্বাসনালীকে প্রভাবিত করে থাকে, যা ফুসফুস সংক্রমণের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এর লক্ষণের মধ্যে রয়েছে- গলাব্যথা, নাক বন্ধ এবং কাশি।

শিশুদের কাশি, গলাব্যথা এবং সাধারণ সর্দির ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মধু ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে প্রাপ্তবয়স্কের ক্ষেত্রে মধুর কার্যকারিতা প্রমাণের গবেষণাগুলো পদ্ধতিগতভাবে পর্যালোচনা হয়নি। এ বিষয়টি সমাধানের জন্য অক্সফোর্ডের বিজ্ঞানীরা গবেষণাগুলোর তথ্য পর্যালোচনা করেছেন। এজন্য ১৪টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে, যেখানে বিভিন্ন বয়সের মোট ১,৭৬১ জন অংশগ্রহণকারী ছিল। এই গবেষণাগুলোর ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সর্দি-কাশির ঘনত্ব এবং তীব্রতা কমানোর ক্ষেত্রে মধু অনেক বেশি কার্যকর ছিল।

দুটি গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, মধু খাওয়ার ফলে সর্দি-কাশি থেকে নিরাময় ওষুধের তুলনায় ২ দিন আগে হয়েছে।

বিএমজে এভিডেন্স বেজড মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন এই গবেষণায় বলা হয়, আপার রেসপিরেটরি ট্রাক্ট ইনফেকশনে (ইউআরটিআই) প্রায়ই অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেহেতু বেশিরভাগ ইউআরটিআই ভাইরাল, তাই অ্যান্টিবায়োটিক প্রেসক্রিপশন উভয়ই অকার্যকর এবং অনুপযুক্ত।

বিজ্ঞানীদের মতে, আপার রেসপিরেটরি ট্রাক্ট ইনফেকশনের চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে মধু প্রেসক্রাইব করা যেতে পারে।

Thursday, August 13, 2020

অনলাইনে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর ভ্রমণ

ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাড়িতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবার হত্যা করা হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। এখন এটি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর। অনলাইনে ভার্চ্যুয়াল ভ্রমণের মাধ্যমে এই জাদুঘর ঘুরে দেখার ব্যবস্থা করেছেন তরুণ দম্পতি নাসির খান ও মুন রহমান।

বাড়ির নিচতলায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিবাড়ির নিচতলায় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিকমলা রঙের বোতামটা কম্পিউটার মনিটরের মাঝখানটায়। তার ওপর বাংলায় লেখা ‘ভার্চ্যুয়াল ট্যুর’। মাউসের এক ক্লিকেই শুরু হলো ত্রিমাত্রিক (থ্রিডি) ভ্রমণ। এল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিস্তম্ভ। চেনা স্মৃতিস্তম্ভের অবস্থান ধানমন্ডির পুরোনো ৩২ নম্বর সড়কের পাশে। যার পেছনে ধানমন্ডি লেক। বৃক্ষশোভিত প্রকৃতি। মাউস নাড়িয়ে ঘুরে দেখি স্মৃতিস্তম্ভ চত্বর। তখনই দৃষ্টি কাড়ে পর্দার ‘সাউন্ড’ সংকেতটি। সেখানে চাপ দিতেই নারীকণ্ঠ ভেসে আসে। প্রাঞ্জল বাংলায় সে কণ্ঠ জানায়, স্মৃতিস্তম্ভটির অবস্থান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের সম্মুখে। জাতীয় দিবসসহ বিভিন্ন সময় যেখানে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আসেন। 

আমরা এগিয়ে যাই পরের ধাপে। ধাপ বলতে আরেকটি ৩৬০ ডিগ্রি ছবিতে। এই ছবিতে দেখা যায় জাদুঘর চত্বরের দেয়াল ঘেঁষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। প্রতিকৃতিকে ভিত্তি ধরে মাউসের ইশারায় ঘুরে দেখা যায় জাদুঘরের বিক্রয়কেন্দ্র, এমনকি টিকিটঘরটিও। 

ভবনের মূল সিঁড়ি। এখানে হত্যা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকেভবনের মূল সিঁড়ি। এখানে হত্যা করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকেপরের ছবিতেই প্রবেশপথ পেরিয়ে আঙিনাসমেত ঐতিহাসিক বাড়িটি। যে বাড়ি শুধু ইট, সিমেন্ট, বালুর ইমারত নয়, বাংলাদেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশও। ‘আই’ নামের তথ্যসংকতেটি জানান দেয়, জাদুঘরের মূল ভবনের নাম ‘বঙ্গবন্ধু ভবন’। পাশেই জুড়ে দেওয়া আছে এই বাড়ির ইতিহাসের ধারাবর্ণনা।

সে ইতিহাসের পথে হেঁটেই চাপ দিই পরের ছবিতে। গাড়িবারান্দা থেকে প্রবেশ করি ভবনের নিচতলায়। করিডর পেরিয়ে অফিসঘর। সুসজ্জিত আসবাবের বদলে তথ্যসংকেতটি আগ্রহী করে তোলে। যেখানে লেখা ‘গুলির চিহ্ন’। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ পুত্র শেখ কামাল যখন গুলিবিদ্ধ হয়ে এই অফিসঘরে এসে পড়ে যান, ঘাতকেরা আবারও গুলি করে তাঁকে হত্যা করে। ছবিটি ঘোরালে তথ্যনির্দেশক চিহ্নটি আবারও জানায়, বঙ্গবন্ধুর ছোট ভাই শেখ আবু নাসেরকেও গুলি করে হত্যার নির্মমতার কথা। 

দ্বিতীয় তলায় শেখ রেহানার কক্ষদ্বিতীয় তলায় শেখ রেহানার কক্ষভার্চ্যুয়াল ভ্রমণের প্রাণহীন ছবিগুলো কথা বলে ওঠে যেন। সে কথায় মিশে থাকে শোক আর নির্মমতা। ভবনের পরতে পরতে ঘাতকের বুলেটের ক্ষতচিহ্ন, রক্তের দাগ, সাজিয়ে রাখা বাড়ির বাসিন্দাদের স্মৃতিস্মারক। যা নিয়ে যায় বইয়ের পাতায়, ইতিহাসের অন্দরে। ইতিহাস জানি বলে বেদনাহত হতে হয়। তবু নিবিড়ভাবে জাদুঘর দর্শনের সুযোগ পেয়ে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখি বৈঠকখানা, গ্রন্থাগার, বঙ্গবন্ধুর শয়নকক্ষ, দ্বিতীয় তলার বসার ঘর, ভবনের মূল সিঁড়ি। 

সে সিঁড়ি দেখে আনমনে কবি নির্মলেন্দু গুণকে আউড়াই, ‘...তোমার নিষ্প্রাণ দেহখানি সিঁড়ি দিয়ে গড়াতে, গড়াতে, গড়াতে/ আমাদের পায়ের তলায় এসে হুমড়ি খেয়ে থামল।/ কিন্তু তোমার রক্তস্রোত থামল না।’ 

তৃতীয় তলায় শেখ কামালের কক্ষতৃতীয় তলায় শেখ কামালের কক্ষবঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়েছিল এই সিঁড়িতেই। ফুলের পাপড়ি ছিটানো সিঁড়ির দেয়ালে গর্বের লাল-সবুজ পতাকা ঝোলানো, সামনে শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদের আঁকা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি। 

এভাবে ৪০টি ছবিতে সম্পন্ন হয়েছে ভার্চ্যুয়াল ভ্রমণ। তিনতলা ভবন ঘুরে ভ্রমণ শেষ হয়েছে আবার বাড়ির নিচতলায় এসে। যেখানে আছে বঙ্গবন্ধুর শিশুপুত্র শেখ রাসেলের দোলনা, চৌবাচ্চা, সবুজ প্রাঙ্গণ।

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারবঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত গ্রন্থাগারগাইডের মতো পুরো ভ্রমণে সহায়তা করল মনিটরের নিচের দিকে থাকা একসারি সাংকেতিক চিহ্ন, যেগুলো নির্দেশ করে ভার্চ্যুয়াল ভ্রমণে সামনে–পেছনে যাওয়া, একেকটি ছবি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘুরে দেখা, ছবি সম্পর্কে প্রয়োজনীয় তথ্য জানা, পর্দাজুড়ে দেখার ব্যবস্থা, ভার্চ্যুয়াল ট্যুর নিয়ে মন্তব্যের ঘর। 

অনলাইনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর ভ্রমণ করা যাবে
tour.bangabandhumuseum.org.bd ঠিকানার ওয়েবসাইটে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের টানে

মুন রহমান ও নাসির খান। ছবি: সংগৃহীতমুন রহমান ও নাসির খান। ছবি: সংগৃহীতভার্চ্যুয়াল ভ্রমণের কাজটি করেছেন তরুণ দম্পতি নাসির খান ও মুন রহমান। নাসির খান পেশায় সফটওয়্যার প্রকৌশলী। মুন রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে পড়াশোনা শেষে উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন অস্ট্রেলিয়ায়। 

২০১৭ সালে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের ‘ভার্চ্যুয়াল ট্যুর’ নির্মাণ শুরু করেছিলেন দুজন। হস্তান্তর করেছেন এ বছরের জানুয়ারি মাসে। নাসির খান বলেন, ‘অনেক জায়গায় আমরা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও সময়-সুযোগের অভাবে যেতে পারি না, কিন্তু যাওয়া উচিত। আমরা চেয়েছিলাম সেগুলো মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিতে। সে ধারণা থেকেই ভার্চ্যুয়াল ট্যুর তৈরির জন্য দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় ও ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনার তালিকা করি।’ 

কাকতালীয়ভাবে তাঁরা যখন ভার্চ্যুয়াল ট্যুরের কথা ভাবছেন, সেটা আগস্ট মাস। ২০১৭ সালের সেই শোকের মাসে নাসির ও মুন ভাবলেন প্রথম কাজটি তাঁরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘর নিয়েই শুরু করবেন। কিন্তু চাইলেই তো আর সম্ভব নয়! 

যোগাযোগ করলেন জাদুঘর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। অনুমতি মিললে আটঘাট বেঁধে নামলেন কাজের পরিকল্পনায়। পড়াশোনা করলেন ৩২ নম্বরের বাড়ির ওপর। দর্শনার্থী হিসেবে পরিদর্শন করলেন জাদুঘর। নাসির খান বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম মানুষ যেভাবে ভবনে প্রবেশ করে বেরিয়ে আসে, সেভাবেই ঘুরে দেখাতে।’ 

মানসম্পন্ন ক্যামেরা জোগাড় করা হলো। নিজেদের রোজকার কাজের ফাঁকে তাঁরা হাজির হতেন জাদুঘরে। দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে ছবি তোলাসহ ভার্চ্যুয়াল ট্যুরের কারিগরি কাজ করেন দুজন। নাসির বলছিলেন, ‘নিজেদের আগ্রহে কাজটি আমরা করছিলাম, তাই বেশি সময় দিচ্ছিলাম। তথ্য ও ছবি ব্যবহারে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও পরামর্শের ব্যাপারও ছিল।’ 

নাসির খান ও মুন রহমানের উদ্যোগ সম্পর্কে বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটর মো. নজরুল ইসলাম খান বলেন, তাঁরা দুজনে ব্যক্তিগত আগ্রহ, শ্রম ও আন্তরিকতায় কাজটি করেছে। আমাদের তরুণেরা যে ভালো কিছু করতে পারে এই ভার্চ্যুয়াল ট্যুর তা মনে করিয়ে দেয়। কোভিড-১৯–এর দুঃসময়ে তো বটেই, যাঁরা সশরীর জাদুঘরে আসতে পারেন না, তাঁরাও ভার্চ্যুয়াল ট্যুরের মাধ্যমে জাদুঘরটি দেখার সুযোগ পাবেন।

কোন গোলাপ কিসের প্রতীক

  ভালোবাসার ফুল গোলাপ। এটি ভালোবাসার ভাষা বুঝতে ও বোঝাতে পারে। তাই উপহার হিসেবে গোলাপেরই চাহিদা এখন সবার উপরে। লাল গোলাপ প্রেমের কবিতা আর গল...