Thursday, October 29, 2020

ডিজিটাল মঞ্চে ল্যাকমের আসর

 

এবার ডিজিটাল প্রাঙ্গণে মহাসমারোহে উদ্যাপন করা হলোল্যাকমে ফ্যাশন উইক ২০২০ প্রতিবারের মতো আসরে তাঁরা মেলে ধরেন টেকসই পোশাকের আগামী ধারা থেকে উৎসবের জমকালো আয়োজন।

করোনাভাইরাসের কারণে স্তব্ধ দুনিয়া। তলানিতে এসে ঠেকেছে বিশ্বের অর্থনীতি। কিন্তু থেমে নেই ফ্যাশনের দুনিয়া। করোনাকালকে জয় করে সৃষ্টির নেশায় মেতে ছিলেন ডিজাইনাররা। সেটারই ঝলক পাওয়া গেল ল্যাকমে ফ্যাশন উইকে। এবার ডিজিটাল প্রাঙ্গণে মহাসমারোহে উদ্যাপন করা হলোল্যাকমে ফ্যাশন উইক ২০২০ ল্যাকমের এই ডিজিটাল মঞ্চ জমজমাট ছিল নামীদামি ডিজাইনারদের সমাগমে। প্রতিবারের মতো আসরে তাঁরা মেলে ধরেন টেকসই পোশাকের আগামী ধারা থেকে উৎসবের জমকালো আয়োজন।

এবারের ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের সূচনা হয় খ্যাতনামা ডিজাইনার মনীশ মালহোত্রার রাজকীয় আয়োজন দিয়ে। রাতে তিনি ফ্যাশনপ্রেমীদের সঙ্গে পরিচয় করানরুহানিয়াতসংগ্রহের। পাঞ্জাব, আওয়াধ, কচ্ছ মোগলের রাজঘরানার রাজবেশে ছিলেন মডেলরা। এই রাজকীয় পোশাককে আরও উজ্জ্বল করে মনীশ মালহোত্রার মণিমুক্তাখচিত জমকালো অলংকার। পুরুষদের জন্য মনীশের আয়োজনে ছিল লম্বা এবং খাটো ঝুলের বাহারি কুর্তা। রুহানিয়াত রাতে মনীশের নকশা করা সাবেকি কুর্তা, খাদা দোপাট্টা, ঘরারা, লেহেঙ্গা-চোলি এবং ইজার সালোয়ার পরে মঞ্চ আলোকিত করেন মডেলরা।

উৎসবের শুরু মানেই একঝাঁক নবীনের জয়গান। আইএনআইএফডি প্রতিবারের মতো এবারও ল্যাকমের ফ্যাশন আঙিনায় নিয়ে আসেন তিন নবাগত ডিজাইনারকে। আনমোল শর্মা, ভূমিকা-মীনাক্ষী আরুষিএই তিন তরুণ ডিজাইনার সুতির আরামদায়ক পোশাক নিয়ে নানান শিল্পকথা পরিবেশন করেন। ভূমিকা-মিনাক্ষীরশুওয়াকালেকশনে ছিল কলা কমলার উপকরণ দিয়ে তৈরি অভিনব পোশাক। আরুষি ল্যাকমের এই ডিজিটাল আঙিনায় নিয়ে আসেন হাতে বোনা সুতির সিল্ক, মটকা সিল্ক, চান্দেরির ওপর সুজনি এবং কাঁথা স্টিচের কারুকাজ

গৌরাঙ্গ শাহ মানেই এক ব্যতিক্রমী আয়োজন। ল্যাকমের এবারের আসরে ৪০০-৫০০ বছর আগে গোলকোন্ডার সপ্তম সুলতান আবদুল্লা কুতুব শাহের আমলের তারামতিকে আবার ল্যাকমের মঞ্চে জীবন্ত করেন গৌরাঙ্গ। ইক্কত, কাঞ্ছি, পাটান, কোটা, উপ্পাডা, বেনারসি, কানি, ভেঙ্কটগিরি, পৈঠানি, জামদানির ক্যানভাসে আরি, চিকনকারি, পেটিট-পয়েন্ট, কাসুটি, শিভোরি, কাঁথা, রঙিন কচ্ছ, পার্সি গারার কারুকাজ এঁকেছেন গৌরাঙ্গ

প্রাচ্য পাশ্চাত্যের মেলবন্ধনে ফ্যাশনের জগতে এক নতুন দিশার সন্ধান দেন ডিজাইনার সুকেত ধীর। এই ডিজাইনার ল্যাকমের মঞ্চে প্রকৃতির নানা উপাদানকে ব্রোকেডের মোটিফে তুলে ধরেছেন। ছাড়া মহারাজা, মহারানি, সখীদের নিয়ে নানা সাবেকি মোটিফ ছিল তাঁর আয়োজনে। হট প্যান্ট, কোট, ট্রাউজার, ওয়ান পিসের ওপর হাতে বোনা সিল্ক ব্রোকেড নিয়ে তাঁর আয়োজন ছিল রঙিন।

আর-এলানেরগ্রিন গোল্ডপ্রজেক্টের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে ডিজাইনার পঙ্কজ-নিধি ল্যাকমের আঙিনায় এক নতুন শিল্পকথার জন্ম দেন। ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বোতল থেকে উচ্চমানের তন্তুর জন্ম দিয়ে ফ্যাশন দুনিয়ায় আলোড়ন ফেলেছেআর-এলান পঙ্কজ-নিধি উন্নতমানের সুতি, সুতি সিল্ক আর শিফন দিয়ে পাফ হাতের ব্লাউজ, বেল্ট দেওয়া ফুল-ফ্লেয়ার ম্যাক্সি, ব্র্যালেটের সঙ্গে লম্বা স্কার্ট, স্লিম প্যান্ট, বোতাম ছাড়া জ্যাকেটসহ নানান ফ্যাশনের আরামদায়ক পোশাক নিয়ে আসেন ল্যাকমের মঞ্চে।

ডিজাইনার হেমাঙ্গ আগারওয়াল জল, বায়ু, ভূমি, চন্দ্র, সূর্য, অগ্নিসহ প্রকৃতির বারোটি উপাদানকে মোটিফের আকার দিয়ে এক রঙিন ক্যানভাস উন্মুক্ত করেন ল্যাকমের ডিজিটাল প্রাঙ্গণে। ছাড়া তাঁর ব্রোকেডের বাহারও সবার নজর কাড়ে।

উৎসবে জমকালো পোশাকের নানা আয়োজন নিয়ে হাজির ছিলেন কুনাল রাওয়াল, অনুশ্রী রেড্ডি, দিশা পাটিল, ঋদ্ধি মেহেরা, জয়ন্তী রেড্ডি, সুকৃতি-আকৃতিসহ আরও নামীদামি ডিজাইনাররা। কুনালের সম্ভারে ছিল সাদা, কালো, ধূসর রঙের রুচিশীল পার্টি পোশাক। অনুশ্রী রেড্ডিরনাজিরাআয়োজনে সিল্ক, অরগেঞ্জা, হাতে বোনা সুতির ওপর থ্রিডি ক্রিস্টাল, কাটদানা এবং সূক্ষ্ম সুতার কাজ ছিল চোখজুড়ানো। ঋদ্ধি উৎসবের রাতের জন্য অরগেঞ্জার ওপর গুজরাটি কাজের জাম্প স্যুট থেকে আনারকলি, শাড়ি, লেহেঙ্গার ভিন্ন আয়োজন রেখেছিলেন ল্যাকমের চতুর্থ রাতে। ডিজাইনার সুকৃতি-আকৃতিনিও ফুলকারিসম্ভারের মাধ্যমে এক দৃষ্টিনন্দন প্রদর্শন করেন। পাঞ্জাবের রঙিন ফুলকারি এমব্রয়ডারিকে জ্যাকেট, ক্রপড জ্যাকেট, শর্ট প্রিন্স কোট, লেহেঙ্গা, কুর্তা, ঘরারা, হাফ ঝুলের প্যান্ট, চোলি, দোপাট্টায় তুলে ধরেন। সুকৃতি-আকৃতির পোশাক ছুটির মেজাজকে আরও রঙিন করে তুলবে। করোনাকালের বিষণ্নতা কাটিয়ে উঠতে জয়ন্তী বেছে নিয়েছেন লাল রং।

এবারের ল্যাকমে ফ্যাশন উইকের সহযোগিতাায় ছিল নেক্সা, ট্রেসেমে, অ্যাজিও কালারস ইনফিনিটি, ন্যাচারাল ডায়মন্ড, আরএলান, বোট, সিক্স ডিগ্রি, আইএনআইএফডি, বেমবার্গ, চিক, সেন্ট রেগিস ভুট।

 




Thursday, October 22, 2020

এক আঙিনায় মসজিদ ও মন্দির যেখানে

 


লালমনিরহাট শহরের পুরান বাজারের কাছেই এক আঙিনায় অবস্থিত মসজিদ মন্দির। এখানে মুসলমানদের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদ এবং কালীবাড়ি দুর্গা মন্দির পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে। দুটি স্থাপনার দেয়াল প্রায় লাগোয়া। যেন ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ভাবতেই ভালো লাগা কাজ করে।

ভোরে ফজরের সময় মোয়াজ্জিনের কণ্ঠে মিষ্টি আজান শেষে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করে চলে যায়। তার কিছুক্ষণ পরেই মন্দিরে শোনা যায় উলুধ্বনি! চলে পূজা-অর্চনার অনুষ্ঠানিকতা। এমনই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন বহন করছে শতবর্ষী মসজিদ মন্দির।

মসজিদের মুয়াজ্জিন মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের এখানে একই উঠানে দুইটা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এখানে মুসলমান এবং হিন্দুরা যে যার ধর্ম সুষ্ঠুভাবে পালন করছেন। আমরা নামাজ পড়ছি, তারা পূজা করছেন। কেউ কারো ধর্মে কোনো হস্তক্ষেপ করছেন না। আমাদের মাঝে ধর্মীয় আচার-বিধি পালন করা নিয়ে কোনো দ্বন্দ্ব নেই।

প্রবীণ সাংবাদিক একাত্তরের গেরিলা কমান্ডার এসএম শফিকুল ইসলাম কানু বলেন, ‘১৮৩৬ সালে দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠার আগে এখানে কালী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে পুরান বাজার অনেকের কাছে কালীবাড়ি নামে পরিচিত। এরপর মন্দির প্রাঙ্গণে ১৯০০ সালে একটি নামাজের ঘর নির্মিত হয়। নামাজের ঘরটিই পরবর্তীতে পুরান বাজার জামে মসজিদ নামে পরিচিতি লাভ করে।

তিনি বলেন, ‘কোনো বিবাদ ঝামেলা ছাড়াই ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করে আসছে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ। দুর্গাপূজার সময় ঢাক-ঢোল বাদ্যযন্ত্র নিয়ে সমস্যা হয় না। মসজিদ মন্দির কমিটির সদস্যরা বসে ঠিক করে নেন কখন কিভাবে ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদি পালন করা হবে। নামাজের সময় সব বাদ্য-বাজনা বন্ধ রাখা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিরা দ্রুত মসজিদ ত্যাগ করে পূজারীদের সুযোগ করে দেন। এটাই এখানে নিয়ম।

এলাকাবাসী জানান, দীর্ঘদিন ধরে একই উঠানে মসজিদ-মন্দির হলেও উভয় ধর্মের মানুষ সম্প্রীতির বন্ধনে থেকে স্ব-স্ব ধর্ম পালন করে আসছেন। কিন্তু ধর্ম পালন নিয়ে কখনো কোনো বাক-বিতণ্ডাও হয়নি বলে জানা যায়। শালীনতা বজায় রেখে একই উঠানে দীর্ঘদিন বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন উভয় ধর্মের মানুষ।

ধর্মীয় সম্প্রীতি কী, ধর্মীয় সম্প্রীতি কাকে বলে, তা কেমন হওয়া উচিত- তা জানার জন্য, দেখার জন্য সবার এখানে আসা উচিত। মন্দিরের পুরোহিত সঞ্জয় কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘মন্দিরে নিয়মিত পূজার্চনা হয়। আজান নামাজের সময় বাদ্যযন্ত্রের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়। ধর্মীয় সম্প্রীতির বিঘ্ন ঘটে- এমন অবস্থার মধ্যে আমাকে কোনো দিনই পড়তে হয়নি। বরং স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতা পেয়ে আসছি।

উভয় ধর্মের বাসিন্দারা এটা নিয়ে গর্ব করেন। লালমনিরহাটে দুবছর চাকরি করার সুযোগে আমি নিজেও তা লক্ষ্য করেছি। পৃথিবীজুড়ে চলমান সহিংসতা আর সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের সংবাদের মধ্যে এমন দৃশ্য নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। একই আঙিনায় মন্দির মসজিদ স্থাপন করেছে ধর্মীয় সম্প্রীতির বিরল দৃষ্টান্ত।

যাতায়াত: ঢাকা থেকে বাস ট্রেনে লালমনিরহাট যাওয়া যায়। লালমনি এক্সপ্রেস কমলাপুর থেকে রাতে ছেড়ে সকালে লালমনিরহাটে পৌঁছায়। ছাড়া কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস অথবা রংপুর এক্সপ্রেসে রংপুর বা কাউনিয়া নেমে বাস বা ট্রেনে লালমনিরহাট। লালমনিরহাট হচ্ছে রেলের বিভাগীয় শহর। এরপর রিকশা বা অটোতে পুরান বাজারের ঐতিহাসিক স্থানে যাওয়া যায়।

থাকা-খাওয়া: থাকা-খাওয়ার জন্য মধ্যমমানের কিছু হোটেল রয়েছে মিশন মোড় রেলগেটের কাছাকাছি। ঐতিহাসিক স্থানের ঠিক কাছেই বহুতল খাঁন আবাসিক হোটেলে বিলাসী থাকা খাবারের ব্যবস্থা আছে।

six seasons

  There are six seasons in Bangladesh. Each season has its special feature. Dew drops fall at night during in winter. The spring is the king...