Sunday, October 29, 2017

ইসলাম ও ধর্ম


কাবা সম্পর্কে অজানা ১০টি তথ্য

পবিত্র কাবা শরিফ পৃথিবীতে আল্লাহপাকের একটি নিদর্শন। পৃথিবী সৃষ্টির সূচনাকাল থেকেই আল্লাহপাক কাবাকে তাঁর মনোনীত বান্দাদের মিলনমেলা হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। কাবা ইসলামের রাজধানী হিসেবে একটি পরিচিত নামও। পৃথিবীতে মাটির সৃষ্টি এ কাবাকে কেন্দ্র করেই। হাদিসে এমন এসেছে যে কাবার নিচের অংশটুকু পৃথিবীর প্রথম জমিন। বিশাল সাগরের মাঝে এর সৃষ্টি। ধীরে ধীরে এর চারপাশ ভরাট হতে থাকে। সৃষ্টি হয় একটি বিশাল মহাদেশের। এক মহাদেশ থেকেই সৃষ্টি হয় সাত মহাদেশের। মক্কা ও কাবার পরতে পরতে লুকিয়ে আছে ইবরাহীম (আ.)-এর পদচিহ্ন-স্মৃতি। বর্তমান আহলে কিতাব (আসমানি ধর্মগ্রন্থপ্রাপ্ত) ইহুদি ও নাসারাদের নবীরা তারই পুত্র ইসহাক (আ.)-এর বংশোদ্ভূত হওয়ায় কাবার মর্যাদা ও মাহাত্ম্য তাদের কাছেও সমানভাবে সমাদৃত।
পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহপাক কাবা সম্পর্কে বলেছেন, স্মরণ করুন সে সময়কে যখন আমি ইবরাহীমকে বাইতুল্লাহর স্থান নির্ধারণ করে বলেছিলাম যে আমার সঙ্গে কাউকে শরিক করো না। (সুরা হজ, ২৬) এখলাস ও একনিষ্ঠতা এ নির্মাণের অন্যতম উপকরণ ছিল। আল্লাহ বলেন, স্মরণ করো, যখন ইবরাহীম ও ইসমাইল কাবাগৃহের ভিত্তি স্থাপন করছিল। তারা দোয়া করেছিল, হে আমাদের রব! (এ কাজ) আপনি আমাদের পক্ষ থেকে কবুল করুন। (সুরা বাকারা, ১২৭) এই কাবা সর্ম্পকে কিছু অজানা ১০টি তথ্য নিম্নে তুলে ধরা হলো।
১.কাবার পুনর্গঠিন : কাবা অনেক বার পুনর্গঠিত হয়েছে। বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আবার হামলার কারণেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিহাসবিদরা মনে করেন কাবা মোট ১২ বার পুনর্গঠিত হয়েছে। সর্বশেষ কাবায় পুনর্গঠনের কাজ হয় ১৯৯৬ সালে। কাবা নির্মাণে অংশগ্রহণ করেছেন, আদম (আ.) ইবরাহিম (আ.) এবং সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)
২.গিলাফের রঙ পরিবর্তন : কাবার গিলাফ বললেই কালো রংটা আমাদের সামনে ভেসে উঠে। আচ্ছা কাবা নির্মিণ হওয়ার পর থেকেই কি কাবার গিলাফের রং কালো? কাবাকে গিলাফ দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এই প্রচলনই বা আসলো কবে? কাবাকে গিলাফ দিয়ে ঢেকে রাখার প্রচলন শুরু হয় মূলত জুরহাম গোত্রের শাসনামলে। পরে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সাদা ইয়েমেনি কাপড় দিয়ে কাবাকে আব্রিত করেছিলেন। এর পর বিভিন্ন খলিফারা কাবার গিলাফের বিভিন্ন রং ব্যবহার করেছেন। কেউ ব্যবহার করেছেন লাল রংয়ের গিলাফ আবার কেউ ব্যবহার করেছেন সাদা রংয়ের গিলাফ। তবে আজকে যে আমরা কালো গিলাফ দেখতে পাই তার প্রচলন শুরু হয়েছে আব্বাসী শাসন আমলে।
৩.কাবার আকৃতি : কাবার মূলত ডি আকৃতির (আধা গোলাকার) ছিল, যা হযরত ইবরাহীম (আ.) নির্মাণ করেছিলেন। ইবরাহীম (আ.) এর পরে ইসলামের আগে কুরাইশরা কাবার পুনর্নির্মাণ করে। তখন তাদের টাকার অভাবের কারণে পুরো কাঠামো পুনর্গঠন করতে পারেনি। বর্তমানে যেমন আছে। বাকি স্থানটি এখন হাটিম বলা হয়। একটি ছোট প্রাচীর দ্বারা চিহ্নিত করা আছে।
৪.কাবার দরজা কয়টি : মূল কাবার দুটি দরজা ছিলো যার একটি দিয়ে প্রবেশ করা হত আর একটি বের হওয়ার জন্য ব্যবহৃত হত। এমন ছোট্ট একটি জানালাও ছিলো। তবে বর্তমানে কাবার মূল দরজা একটি। কিন্তু ভেতর দিয়ে কাবার ছাদে উঠার জন্য একটি দরজা আছে।
৫.কাবা ঘরের অভ্যন্তরে কী আছে? এ নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন জাগে। কাবার অভ্যন্তরে তিনটি পিলার মূল ছাদটিকে ধরে রেখেছে। দুই পিলারের মাঝে একটি টেবিলে সুগন্ধি রাখা আছে। দেয়ালের উপরাংশকে একটি সবুজ কাপড়াবৃত করে রেখেছে। কাপড়টিতে কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ক্যালিগ্রাফি খচিত।
৬.হাজরে আসওয়াদ : হাজর আল আসওয়াদ পাথরটি এখন একটি ফ্রেমের মাঝে রাখ। এমনকি এখন এই পাথরটি বেশ কয়েকটি টুকরো। অবশ্য এক সময় একটি পাথরই ছিলো। কিন্তু বিভিন্ন কারণে পাথরটা ভেঙ্গে টুকরো টুকরো হয়ে গেছে। তবে এই পাথর গুলোকে ফ্রেমের ভিতরে রাখার কাজটা করেছেন আব্দুল্লাহ বিন জুবাইর।
৭.আল-শিবীবী পরিবার সর্বদা কাবার রক্ষক ছিলেন : ইসলাম আসার পূর্ব থেকেই এই পরিবারটি কাবার রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। মূলত তারা ১৫ শতাব্দির রক্ষক। এবং এই পরিবারের লোকেরাই উত্তরাধিকার সূত্রে কাবার রক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে থাকেন।
৮. বছরে দুইবার কাবা পরিষ্কার করা হয় : আল-শিবীবী পরিবার শাওয়ান ও দুল-কায়েদা জুড়ে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। একটি বিশেষ পরিস্কার মিশ্রণ জমজম পানি থেকে প্রস্তুত করা হয়, তাফ রাশওয়াটার এবং ব্যয়বহুল তেল এতে ব্যবহার করা হয়। এই পরিষ্কার করার অনুষ্ঠানে গভর্নর কয়েকজনকে আমন্ত্রণ জানান।
৯.কাবা দরজা সকলের জন্য উন্মুক্ত : প্রথম দিকে প্রত্যেকে কাবার ভিতরে ঢুকতে পারতো এবং ভিতরে ইবাদত করতে পারবো। কেননা তখন কাবার দরজা সবার জন্যই উন্মুক্ত ছিলো। দিন দিন যেহেতু কাবার তোওয়াফকারীর সংখ্যার বৃদ্ধি পাচ্ছে তাই কাবার ভিতরে এখন আর সবাই প্রবেশ করতে পারে না। কাবার দরজা এখন বিশেষ অতিথিদের জন্য মাঝে মাঝে মাঝে খোলা হয়।
১০. কাবার তোওয়াফ কখনো থামে না : কাবার বিষয়ে সব থেকে বেশি আর্শ্চযের বিষয় হলো কাবার তোওয়াফ কখনো বন্ধ হয় না। ইতিহাস ঘাটলে এমন ঘটনাও পাওয়া যায় যে, বন্যার সময় মানুষ সাঁতার কেটে কেটে তোওয়াফ করেছে। তবুও কাবার তোওয়াফ কখনো বন্ধ হয়নি। সূত্র: টপ স্টোরিস




















































































Wednesday, October 18, 2017

চিকিৎসা

গরমে চোখ ওঠা রোগ থেকে মুক্ত থাকুন

চোখ ওঠা রোগটি জটিল কিছু নয়। তবে অন্য ঋতুর চেয়ে গরমকালে রোগটি একটু বেশি দেখা যায়। রোগটি হয়ে থাকে চোখের সাদা অংশ ও চোখের পাতার ভেতরের অংশে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটির নাম কনজাঙ্কটিভাইটিস। এটি হওয়ার মূল কারণ ভাইরাসের আক্রমণ। তবে ব্যাকটেরিয়া, অ্যালার্জি বা আঘাত পাওয়ায় রোগটি হতে পারে। চোখ ওঠা সমস্যা যে কোনো বয়সী নারী ও পুরুষের যে কোনো সময় হতে পারে। হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ অপরিষ্কার বা নোংরা পরিবেশে জীবনযাপন।
লক্ষণ : চোখ লাল হয়ে যায়, চোখের রক্তনালিগুলো প্রদাহের কারণে ফুলে যায়, ঘুম থেকে উঠলে চোখ আঠা আঠা লাগে, সব সময় চোখের ভেতর কিছু একটা পড়েছেÑ এমন অনুভূতি হয়, চোখ চুলকায় এবং জ্বালাপোড়া করে, আলোর দিকে তাকালে অস্বস্তি লাগে, সব কিছু ঘোলা দেখে, চোখ দিয়ে পানি পড়ে, চোখের কোনায় ময়লা জমে ইত্যাদি।
ঝুঁকি : গরমকালে এ রোগটি হলে চোখের ক্ষতি হতে পারে। তাই একটু সাবধানতা অবলম্বন জরুরি। এ সময় জীবাণুর ওপর ওষুধের খুব বেশি প্রভাব পড়ে না। গরমের প্রভাব জীবাণু অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলে ওষুধ দিয়ে অনেক সময় জীবাণু প্রতিরোধ করা যায় না। আগেই বলা হয়েছে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে এ সমস্যা একেবারেই সামান্য থাকে এবং নিজে থেকে ঠিক হয়ে যায়। তবে গুরুতর ক্ষেত্রে এটি ঠিক হতে অন্তত তিন থেকে চার সপ্তাহ সময় লেগে যায়। এ জীবাণুর প্রভাবে চোখের সাদা অংশ লাল হয়ে যায়। একজনের থেকে অন্যজনেও এ জীবাণু সংক্রমিত হতে পারে।
রোগমুক্ত থাকার উপায় : পরিমাণমতো পানি পান এ রোগ থেকে রক্ষার সবচেয়ে ভালো উপায়। এ ছাড়া সবজি ও টাটকা ফল খাওয়া এবং পর্যাপ্ত ঘুমও এ রোগ থেকে রেহাই দিতে পারে। যার আগে থেকে এ রোগ রয়েছে, তিন মোটেও চোখে হাত দেবেন না। দিনে বেশ কয়েকবার ঠা-া পানি দিয়ে চোখ ধুতে হবে। বিশেষ করে সারাদিন কাজ করার পর বাড়ি ফিরে অবশ্যই এ কাজটি করতে হবে। অন্য কারো তোয়ালে, রুমাল, বালিশ, বিছানা ইত্যাদি ব্যবহার বন্ধ রাখতে হবে। দুচাকার গাড়িতে যাতায়াতের সময় সানগ্লাস ব্যবহার করতে হবে। সাঁতার কাটার সময় চোখে চশমা ব্যবহার করুন। এ রোগ ছোঁয়াচে। তাই যারা এ রোগের শিকার হয়েছেন, তাদের থেকে দূরে থাকুন।

Monday, October 9, 2017

জীবনধারা

অন্ধত্ব ও ক্যানসার প্রতিরোধে লালশাক

লালশাক রক্তে হিমোগ্লোবিন বাড়ায়। ফলে যাদের রক্তস্বল্পতা রয়েছে, তারা নিয়মিত লালশাক খেলে রক্তস্বল্পতা পূরণ হয়।
তাছাড়া এর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সাহায্য করে। লালশাক নিয়মিত খেলে দৃষ্টিশক্তি ভালো থাকে এবং অন্ধত্ব ও রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করা যায়।   লালশাক ভিটামিন ‘এ’-তে ভরপুর। লালশাকের ক্যালরির পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্যও লালশাক যথেষ্ট উপকারী। এটি মস্তিষ্ক ও হৃৎপিণ্ডকে শক্তিশালী করে। দাঁতের মাড়ি ফোলা প্রতিরোধ করে। শিশুদের অপুষ্টি দূর করে। শরীরে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে গিয়ে যেসব অসুখ হয়, তা প্রতিরোধ হয়। এ ছাড়া এটি শরীরের ওজন হ্রাস করে।
এর মধ্যে রয়েছে আরও প্রচুর স্বাস্থ্য গুণও! লাল শাকের বিটা-ক্যারোটিন হার্টস্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে। আঁশ জাতীয় অংশ খাবার পরিপাকে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। ভিটামিন ‘সি’-এর অভাবজনিত স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে লালশাক।

কোন গোলাপ কিসের প্রতীক

  ভালোবাসার ফুল গোলাপ। এটি ভালোবাসার ভাষা বুঝতে ও বোঝাতে পারে। তাই উপহার হিসেবে গোলাপেরই চাহিদা এখন সবার উপরে। লাল গোলাপ প্রেমের কবিতা আর গল...