Tuesday, November 26, 2019

News

খাদি বা খদ্দর

কুমিল্লা, নোয়াখালী ও চট্রগ্রামে প্রস্তুত খাদি ও খদ্দরের সমাদর শুধু গ্রামজীবনেই নয়, শহরের আধুনিক সমাজেও যথেষ্ট. খাদি কাপড়ের বিশেষত্ব হচ্ছে, এর সবটাই হাতে প্রস্তুত। তুলা থেকে হাতে সুতা কাটা হয়. গ্রাম বাসীরা অবসর সময়ে সুতা কাটে। এদের বলা হয় কাটুনি। গ্রামে বাড়ির আশপাশে তুলার গাছ লাগানোর রীতি আছে. সেই গাছের তুলা দিয়ে সুতা কাটা ও হাতে চালিত তাতে এসব সুতায় যে কাপড় প্রস্তুত করা হয়, সেই কাপড়ই প্রকৃত খাদি বা খদ্দর। স্বদেশী আন্দোলনের যুগে বিদেশি কাপড় বর্জন করে দেশি কাপড় ব্যবহারের যে আদর্শ প্রবর্তিত হয়েছিল তারই সাফল্যের সাক্ষর এই খাদি।

Saturday, November 23, 2019

রেসিপি

ঝটপট জিলাপি

উপকরণ: ১ কাপ ময়দা, ২ কাপ চিনি, প্রয়োজন মতো পানি, ১/৩ চা চামচ লবণ, ৩ টেবিল চামচ টক দই, আধা চা চামচ বেকিং পাউডার ভাজার জন্য তেল, সিরা তৈরির উপকরণ, ২ কাপ পানি, দেড় কাপ চিনি, ৩টি এলাচ, সামান্য ফুড কালার, ১ চা চামচ লেবুর রস

প্রস্তুত প্রণালি: একটি বাটিতে ময়দা, বেকিং পাউডার ও লবণ মিশিয়ে, সামান্য পানি দিয়ে মাখাবো। পরে অল্প অল্প করে পানি ঢেলে দিবো। পরে টক দই দিয়ে আবার মেখে নিতে হবে মিশ্রণটি। এরপর আরও একটু পানি দিয়ে মিহি ডো তৈরি করে নিবো। ডিম ফেটানোর মেশিন দিয়ে ভালো করে ফেটে নিবো। খুব বেশি ঘন বা বেশি পাতলা হবে না মিশ্রণটি। সিরা তৈরি করার জন্য একটি প্যানে পানি, চিনি ও এলাচ একসাথে দিবো। মিডিয়াম আঁচে জ্বাল দিয়ে আঠালো করে নিবো। পরে ফুড কালার দিয়ে দিবো। এখন আঙুল দিয়ে দেখবো  আঠালো হয়েছে কিনা। হয়ে গেলে নামিয়ে লেবুর রস দিবো সিরায়। সিরা উষ্ণ গরম থাকতে থাকতে জিলাপি দিতে হবে। এজন্য ঢেকে রাখতে হবে সিরার পাত্র। জিলাপি ভাজার জন্য প্যান চুলায় দিবো । তেল গরম হলে কেচাপের বোতলের চেপে প্যাঁচ দিয়ে জিলাপির আকৃতি করে নিবো। মাঝারি আঁচে বাদামি করে ভেজে নিবো জিলাপি। ভাজা হয়ে গেলে উঠিয়ে তেল ঝরিয়ে সিরার পাত্রে দিয়ে দিবো। ১০ সেকেন্ড রেখে উঠিয়ে পরিবেশন করবো মচমচে জিলাপি।

রেসিপি

ব্রকলির স্যুপ

উপকরণ: ছোট ব্রকলি ১টি (ছোট করে কাটা), মিষ্টি আলু আধা কাপ (খোসা ছাড়িয়ে কিউব করে কাটা), নারকেল দুধ ১ কাপ, সবজির স্টক ৪ কাপ, পেঁয়াজ ১টি (মাঝারি আকার), রসুন ২ কোয়া, আদা আধা ইঞ্চি, ফিশ সস ১ টেবিল চামচ, থাইপাতা বা লেমন গ্রাসের নরম গোড়া কুচানো ২ টেবিল চামচ, লেবুর রস পরিমাণমতো, কাঁচা মরিচ পরিমাণমতো, ধনেপাতা ১০০ গ্রাম, লবন পরিমাণমতো, সয়াবিন তেল বা জলপাই তেল ১ টেবিল চামচ ও জল আধ কাপ।

প্রণালী: পেঁয়াজ, রসুন, আদা, মরিচ আর লেমন গ্রাসের নরম গোড়া কুচোনো, অল্প পানি দিয়ে ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। প্যানে তেল গরম করে ব্লেন্ড করা মিশ্রণ মাঝারি আঁচে ৩/৪ মিনিট লালচে করে ভেঁজে নিতে হবে। এবার এতে সবজির স্টক ঢেলে দিবো। কিউব করে কাটা মিষ্টি আলু আর লবণ দিয়ে সেদ্ধ হওয়ার জন্য ঢেকে দিতে হবে। আলু আধা সেদ্ধ হলে কেটে রাখা ব্রকলি দিয়ে দিবো। ১০-১২ মিনিট পর গ্যাস থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে নারকেল দুধ আর ধনেপাতা মিশিয়ে ব্লেন্ডারে দিয়ে ব্লেন্ড করে নিতে হবে। ফিশ সস আর স্বাদমতো লেবুর রস মিশিয়ে আবারও কম আঁচে ফুটতে দিতে হবে। ফুটে উঠলে স্বাদ ও নুন দেখে নিয়ে নামিয়ে নিতে হবে। পরিবেশন পাত্রে ঢেলে ওপরে ঘন নারকেল দুধ, ধনেপাতা বা সেদ্ধ ব্রকলি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করতে হবে।

Tuesday, November 19, 2019

ইসলাম ও ধর্ম

🌺🕋🌺আজ পবিত্র আশুরা🌺🕋🌺
👉আরবী মহররম মাসের দশ তারিখ.!
👉মহররমের ১০ম দিবসে সংঘটিত বহু ঘটনা হতে কয়েকটি হলোঃ-
.
👉1. আশুরার দিনে হযরত আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করা হয়। 🕋
এই দিনে তিনি জান্নাতে প্রবেশ করেন।
এই তারিখেই জান্নাত হতে পৃথিবীতে প্রেরিত হন ও বহু বছর পর এই তারিখেই আরাফাতের ময়দানে জাবালে রহমতে তিনি এবং বিবি হাওয়া (আ:)-এর পুনরায় সাক্ষাৎ লাভ হয় ও তাঁদেরকে মার্জনা করা হয়। 🌺🕋🌺
👉2. হযরত নূহ (আ:) কে তুফান এবং প্লাবনের পানি হতে পরিত্রাণ দেওয়া হয়।🌺🕋🌺
👉3. হযরত আইয়ুব (আ:) কে ১৮ বছর রোগ ভোগের পর রোগ মুক্তি দেওয়া হয়।🌺🕋🌺
👉4. হযরত ইব্রাহিম খালীলুল্লাহ (আঃ) কে অগ্নিকুণ্ড হতে নিষ্কৃতি দেওয়া হয়। 🌺🕋🌺
👉5. হযরত দাউদ (আ:) কে বিশেষ ক্ষমা করা হয় ও হযরত সুলাইমান (আ:) কে স্বীয় হারানো বাদশাহী পুনরায় ফেরত দেওয়া হয়। 🌺🕋🌺
👉6. হযরত ইউনুছ (আ:) কে ৪০ দিন পর মাছের উদরে থাকার পর নিষ্কৃতি দেওয়া হয়।🌺🕋🌺
👉7. এই দিনে হযরত ইয়াকূব (আ:) স্বীয় হারানো পুত্র হযরত ইউসুফ (আ:) এর সাক্ষাৎ লাভ করেন। 🌺🕋🌺
👉8. হযরত মূসা (আ:) ফিরাউনের কবল হতে নিষ্কৃতি লাভ করেন। 🌺🕋🌺
👉9. হযরত ঈসা (আ:) কে আকাশে উত্তোলন করা হয়। 🌺🕋🌺
👉10. আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ (স:)-মক্কা শরীফ হতে হিজরত করে মদীনা শরীফে আশুরার এই তারিখে তাশরীফ নেন। 🌺🕋🌺
👉11. এই ১০ মহররম দিবসে নবী করীম (স:)-এর কলিজার টুকরা ফাতেমা (রা:)-এর নয়নমণি হযরত ইমাম হুসাইন (রা:) ও তাঁর ৭৭ জন পরিজন এবং ঘনিষ্ঠজন জালিম ইয়াজিদের সৈন্য কর্তৃক কারবালা প্রান্তরে, ফোরাত নদীর তীরে নির্মমভাবে শহীদ হন। 😭😭
👉হযরত মুহাম্মদ (সঃ) বলেনঃ-
👉 যে ব্যক্তি আশুরার দিন নিজ পরিবার-পরিজনদের জন্য মুক্ত হাতে ব্যয় করবে, আল্লাহ তাকে সারা বছর সচ্ছলতা দান করবেন।
👉আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামিন আমাদের সকলকে.!!!🕋🕋🕋
👉এই পবিত্র আশুরা ও হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর কলিজার টুকরা ইমাম হাসান হোসাইন (রাঃ) এর উসিলায় আমাদের সকলের গুনাহ গুলো হ্মমা করে দিন.!🤲🕋🤲
🌺🌺🌺🤲 আমিন 🤲🌺🌺🌺

Saturday, November 16, 2019

রেসিপি

টমেটো মাশরুম সুপ
উপকরণ: টমেটো পেস্ট ১ কাপ, টমেটো সস ১ কাপ, বাটার ২ টেবিল চামচ, রসুন ১ চা চামচ, মাশরুম ১ কাপ, কর্ন ফ্লাওয়ার ২ চা চামচ, গোলমরিচ গুঁড়া ১ চা চামচ, চিনি স্বাদ মতো, লবণ স্বাদ মতো।
 
প্রণালী: টমেটো পেস্টের সঙ্গে সব উপকরণ মিশিয়ে ফুটাতে হবে। নামানোর আগে কর্ন ফ্লাওয়ার দিতে হবে।

Friday, November 15, 2019

জলপ্রপাত

বর্ষায় রং বদলায় যে জলপ্রপাত

পৃথিবীর সব পাহাড়ি অঞ্চলেই কমবেশি জলপ্রপাত রয়েছে। সেই প্রপাতের পানির কোন রং থাকে না। এ কথা আমরা জানি। তবে এবার  ব্যতিক্রম প্রপাতের সন্ধান পাওয়া গেল কানাডায়। বছরের অন্যান্য সময় স্বাভাবিক থাকলেও বর্ষা এলেই পানির রং হয়ে যায় গোলাপি।
এমনিতে দেখতে সাধারণ জলপ্রপাতের মতো হলেও এর রয়েছে এক বিশেষ আকর্ষণ। বর্ষার সময়ে ক্যামেরন জলপ্রপাতের রং গোলাপি হয়। এমনকি দিনের আলোর পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে হ্রদের পানি কখনও হয়ে যায় টুকটুকে লাল, কখনও বা গাঢ় কমলা। ভূতত্ত্ববিদদের মতে, ক্যামেরন জলপ্রপাতের আশেপাশে ‘অ্যাগ্রোলাইট’ নামে এক ধরনের পলি মাটি রয়েছে। বর্ষার সময় এই মাটি পানির সঙ্গে মিশলে তাতে গোলাপি রং ধারন করে।

Monday, November 11, 2019

বাংলাদেশ

বাংলাদেশের নদ ও নদী 

বাংলাদেশের উপর দিয়ে বয়ে গেছে অসংখ্য নদী। নদীর সঙ্গে তাই এ দেশের মানুষের গভীর মিতালি। পদ্মা, মেঘনা, যমুনা, ব্রম্মপুত্র এ দেশের বড় নদী। ছোট ছোট নদ নদী ও রয়েছে অনেক। এদের নাম ও ভারী মিস্টি।তিস্তা, করতোয়া, ঈষামতি, গোড়াই, মহানন্দা, ধলেশ্বরী, শীতলক্ষ্যা, সুরমা, কর্ণফুলী, মাতামুহুরী ইত্যাদি। এসব নদ নদীতে চলে নানা রকম নৌকা। নৌকা গুলোর নাম ও খুব চমৎকার। কোসা, ডিঙ্গি, ছিপ, বালাম, বজরা, পানসি, সাম্পান, ময়ুরপঙ্খী। নদীর বাঁকে বাঁকে রয়েছে জেলেদের গ্রাম। নৌকা আর  জাল দিয়ে সারাদিন তারা নদীর বুকে ভেসে বেড়ায় আর মাছ ধরে। পদ্মা মেঘনায় ধরা পড়ে ঝাঁকে ঝাঁকে রুপালি ইলিশ। এদেশের, সাগর, নদী, খাল আর বিলে পাওয়া যায় নানা রকমের মাছ। সাগরের মাছের মধ্যে রয়েছে রূপচাঁদা, কোরাল, লাক্ষা, লইট্টা, ছুড়ি ও ফাইসা মাছ। নদী আর খাল-বিলে পাওয়া যায় রুই, কাতলা, মৃগেল, ভেটকি, চিতল, বোয়াল, শোল, কই, মাগুর, শিঙ, পাবদা, পুটি ও আরও নানা জাতের  মাছ। ভাত আর মাছ আমাদের প্রিয় খাবার। এ জন্যই আমরা বলি, 'মাছে ভাতে বাঙালি'।

Sunday, November 10, 2019

ইসলাম ও ধর্ম

প্রিয় নবীর পরিবারের যাঁরা সদস্য
নাম : মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ, উপনাম : আবুল কাসেম, পিতা : আবদুল্লাহ ইবনে মুত্তালিব (আবদুল মুত্তালিবের দশম সন্তানের সর্বকনিষ্ঠ), মাতা : আমেনা বিনতে ওহ্হাব, দাদা : আবদুল মুত্তালিব ইবনে হাশিম, দাদি : ফাতেমা বিনতে আমর, নানা : ওহ্হাব ইবনে আবদে মানাফ, নানি : বোররা বিনতে ওমজা, জন্মস্থান : মক্কা (বর্তমান সৌদি আরবে অবস্থিত), গোত্র : কোরাইশ, বংশ : হাশিমি, জন্ম সময় : রাত অতিবাহিত হয়ে প্রত্যুষকালে।
নবীপত্নীরা : মক্কা থেকে মদিনায় ইতিহাসখ্যাত হিজরতের মাত্র তিন বছর আগে খাদিজা (রা.)-এর ইন্তেকাল হয়। এ সময় নবী (সা.)-এর বয়স ছিল ৪৯ বছর। খাদিজা (রা.)-এর মৃত্যু পর্যন্ত তিনিই ছিলেন নবী (সা.)-এর একমাত্র স্ত্রী। খাদিজা (রা.)-এর মৃত্যুর পর তিনি একাধিক স্ত্রী গ্রহণ করেন। তাঁদের অনেকেই ছিলেন বিধবা বা যুদ্ধে স্বামীহারা অথবা স্বামী পরিত্যক্তা কিংবা দুস্থ। কোনো বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় আল্লাহ পাকের সরাসরি নির্দেশে। নিচে নামের তালিকা রয়েছে :
১.  হজরত খাদিজা (রা.) : নবী করিম (সা.)-এর প্রথম স্ত্রী। তিনি বিধবা, তবে বিদুষী, ধনী নারী ছিলেন। পবিত্র মক্কায় তিনি ‘তাহেরা’ অর্থাৎ পবিত্র বলে পরিচিত ছিলেন। নবী (সা.)-এর চেয়ে কমপক্ষে ১৫ বছরের বড় ছিলেন তিনি। নবুয়তের প্রথম জীবনে নবী (সা.)-এর দাওয়াতের কাজে তিনি বিশেষভাবে পাশে দাঁড়ান।
২.  সাওদা বিনতে জামআ (রা.) : প্রথমে সাকরান ইবনে আমরের স্ত্রী ছিলেন। সাকরানের মৃত্যুর পর নবী (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
৩.  আয়েশা (রা.) : আবু বকর (রা.)-এর কন্যা। যাঁদের সঙ্গে মহানবী (সা.)-এর বিয়ে হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে শুধু আয়শা (রা.)-ই কুমারী মেয়ে ছিলেন। নবী (সা.)-এর ওফাতের সময় আয়েশা (রা.)-এর বয়স ছিল ১৮ বছর। নবী (সা.)-এর বহু হাদিস আয়েশা (রা.)-এর মাধ্যমে মানবজাতির কাছে পৌঁছেছে। তাঁর প্রখর স্মরণশক্তি এ কাজে সহায়ক হয়েছিল।
৪.  হাফসা (রা.) : ওমর (রা.)-এর কন্যা ছিলেন তিনি। প্রথম জীবনে উনাইস ইবনে হোজাফা (রা.)-এর স্ত্রী ছিলেন। উনাইস (রা.) যুদ্ধে শহীদ হওয়ার পর নবী (সা.) তাঁকে স্ত্রী হিসেবে বরণ করেন।
৫.  জয়নাব বিনতে খুজাইমা (রা.) : তিনি মদিনায় নিঃস্বদের জননী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। প্রথম জীবনে তাঁর বিয়ে হয়েছিল তোফায়েল ইবনে হারিছের সঙ্গে। তালাকপ্রাপ্ত হয়ে তোফায়েলেরই ভাই উবায়দাকে বিয়ে করেন তিনি। উহুদের যুদ্ধে উবায়দা শহীদ হন। পরে অসহায় জয়নাবকে বিয়ে করেন নবী (সা.)। কিন্তু বিবাহিত জীবনের ছয় মাসের মধ্যেই তিনি ইন্তেকাল করেন।
৬.  সালামা (রা.) : প্রথম জীবনে তাঁর বিয়ে হয়েছিল আবু সালামা (রা.)-এর সঙ্গে। উহুদের যুদ্ধে আবু সালামা (রা.) শহীদ হন। বিধবা উম্মে সালামাকে অবশেষে নবী (সা.) স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন। ইতিহাসবিদরা বলেন, নবী (সা.)-এর স্ত্রীদের মধ্যে তিনিই সবার শেষে মৃত্যুবরণ করেন।
৭.  জয়নাব বিনতে জাহাল (রা.) : তিনি ছিলেন নবী (সা.)-এর ফুফাতো বোন। নবী (সা.) প্রথমে তাঁর এই বোনকে তাঁর পালকপুত্র জায়েদ (রা.)-এর সঙ্গে বিয়ে দেন। এ বিয়েতে গোড়া থেকেই জয়নাব (রা.)-এর আপত্তি ছিল। ফলে তাঁদের দাম্পত্য জীবন সুখের হয়নি। পরে তাঁদের পারিবারিক জীবনে বিচ্ছেদ ঘটে। জয়নাব (রা.)-এর আপত্তিতে এ বিয়ে সংঘটিত হওয়ায় এবং পরে বিচ্ছেদ ঘটায় নবী (সা.)-এর মনে কিছুটা অনুশোচনা আসে। এ থেকে জয়নাব (রা.)-কে নিজে বিয়ে করার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেও তৎকালীন আরবের কুসংস্কারের জন্য তা অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। পরে পবিত্র কোরআনের সুরা আহজাবে আয়াত নাজিল হয়। সেখানে পালক ছেলে ও ঔরসজাত সন্তান সমানতুল্য নয় বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। ফলে অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে কুসংস্কার নির্মূল করার উদ্দেশ্যে নবী (সা.)-এর মাধ্যমে সেই বিধান বাস্তবায়ন করে দেখানোর প্রয়োজন অনুভূত হয়। তখনই জয়নাব (রা.)-এর সঙ্গে নবী (সা.)-এর বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
৮.  জুওয়াইরিয়া (রা.) : একটি আরব গোত্রের সরদার হারিছের কন্যা। যুদ্ধে বন্দিনী হয়ে আসেন। মহানবী (সা.) যুদ্ধবন্দির সঙ্গে বিয়ে আবদ্ধ হন। উপহার হিসেবে গোত্রের সব বন্দি মুক্তিলাভ করে। তাঁর পিতা হারিছও ইসলাম গ্রহণ করেন।
৯.  উম্মে হাবিবা (রা.) : মহানবী (সা.)-এর চাচা আবু সুফিয়ানের কন্যা। প্রথমে উবায়দুল্লাহ বিন জাহালের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। দুজনই ইসলাম গ্রহণ করেন এবং আফ্রিকার হাবশায় হিজরত করেন। কিন্তু সেখানে উবায়দুল্লাহ খ্রিস্টান হয়ে যান। উবায়দুল্লাহর থেকে উম্মে হাবিবাকে মুক্ত করতে তিনি হাবশার বাদশাহ নাজ্জাশির মাধ্যমে চাচাতো বোন উম্মে হাবিবা (রা.)-কে বিয়ে করেন।
১০. সাফিয়া (রা.) : তিনি ছিলেন নবীদেরই বংশধর। হজরত মুসা (আ.)-এর ভাই হজরত হারুন (আ.)-এর অধস্তন বংশধারার কন্যা। প্রথমে কিনানা ইবনে আবিলের স্ত্রী ছিলেন তিনি। কিনানার মৃত্যুর পর মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
১১. মায়মুনা (রা.) : তিনি প্রথমে মাসউদ বিন ওমরের স্ত্রী ছিলেন। তিনি তালাক দিলে আবু রিহামের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। আবু রিহাম মারা যাওয়ার পর মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়।
মহানবী (সা.)-এর সন্তানরা
পুত্র :    ১. কাসেম (তাঁর নামানুসারে মহানবী (সা.)-এর উপনাম হয়েছিল আবুল কাসেম)।
    ২. তাহের (অনেক ঐতিহাসিক বলেছেন তাঁর নাম ছিল ‘আবদুল্লাহ’)।
    ৩. ইবরাহিম। (তিনি ছিলেন মারিয়া কিবতিয়া (রা.)-এর গর্ভজাত)।
কন্যা :   ৪.  ফাতিমা ৫. জয়নাব ৬. রোকাইয়া ৭. উম্মে কুলসুম।
জীবনীকারদের কেউ কেউ বলেছেন, জয়নাব ছিলেন মহানবী (সা.)-এর সব সন্তানের মধ্যে বড়। কেউ বলেছেন, রোকাইয়া ছিলেন সবার বড়, আবার কেউ বলেছেন, উম্মে কুলসুম ছিলেন সবার বড়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেছেন, রোকাইয়া ছিলেন সবার বড় এবং উম্মে কুলসুম ছিলেন সবার ছোট। (সূত্র : মুফতি শফি (রহ.), সিরাতে খাতামুল আম্বিয়া, পৃষ্ঠা. ২৭)
ইবরাহিম ছাড়া উল্লিখিত সন্তানদের সবাই ছিলেন খাদিজা (রা.)-এর গর্ভজাত।
মহানবী (সা.)-এর এই তিন পুত্রসন্তানের সবাই শৈশবে মারা যান। তবে কাসেম সওয়ারিতে আরোহণ করতে পারতেন, এমন বয়সেই মৃত্যুবরণ করেন।

লাইফস্টাইল

নারীদের হাড়ক্ষয়ের সমস্যা

অস্টিওপোরোসিস বলতে হাড়ের ঘনত্ব কমে যাওয়াকে বোঝায়। হাড়ক্ষয়ের এ সমস্যায় সামান্য আঘাতেই হাড় ভেঙে যেতে পারে। সমস্যা মারাত্মক হলে হাঁচি বা কাশি দিলেও হাড় ভেঙে যেতে পারে। বয়স্ক নারীদের বিকলাঙ্গ বা মৃত্যুর অন্যতম কারণ এটি। বয়স ৫০ বছর পার হওয়ার পর হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে এ সমস্যার সূত্রপাত হতে পারে আরও আগেই। নারীদের মেনোপজ বা মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরবর্তী সময়ে হাড়ক্ষয়ের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ ছাড়া অনেক কারণে হাড়ক্ষয়ের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে সংশোধনযোগ্য ঝুঁকিগুলো হলো-
১। ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি
২। ধূমপান
৩। অপুষ্টি (ক্যালসিয়াম, জিংক, ভিটামিন এ, ভিটামিন কে ইত্যাদির ঘাটতি)
৪। ক্ষীণকায় শরীর
৫। আমিষনির্ভর খাদ্যাভ্যাস
৬। বেশি বয়সে অতিরিক্ত চা/কফি/চকলেট খাওয়ার অভ্যাস
৭। খাদ্যে বা বাতাসে ভারী ধাতু
৮। কোমল পানীয় ও মদ্যপান
আবার কিছু ঝুঁকি আছে অসংশোধনযোগ্য, মানে চাইলেও এড়ানো যায় না। যেমন- বয়স, জিনগত ত্রুটি, অস্ত্রোপচার করে জরায়ু ফেলে দিলে, সময়ের আগে মেনোপজ, রক্তে সেক্স হরমোনের ঘাটতি, অতি খর্বাকৃতি ইত্যাদি। দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকা, স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ সেবন, হরমোনজনিত রোগ যেমন হাইপারথাইরয়েডিজম, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির সমস্যা, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের মতো কিছু বাতরোগ, কিডনি অকার্যকর হলে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি বাড়ে।
প্রতিরোধের উপায়
প্রাথমিক অবস্থায় হাড়ক্ষয়ের তেমন উপসর্গ থাকে না। বয়স্ক নারীদের কোমরে বা পিঠে ব্যথা না কমলে মেরুদণ্ডের হাড়ে ফাটল দেখা দিয়েছে কিনা দেখতে হবে। কুঁজো হয়ে যাওয়া, সামনে ঝুঁকে দাঁড়ানো বা হাঁটা এ সমস্যার লক্ষণ। রোগীর ব্যক্তিগত ইতিহাস, উপসর্গ মিলিয়ে চিকিৎসক ঝুঁকি নির্ণয় করতে পারেন।
নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, সচল থাকতে হবে
যথেষ্ট ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে
অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে প্রধান ও প্রথম পদক্ষেপ হলো ঝুঁকি শনাক্ত করা এবং সম্ভব হলে তা দূর করার চেষ্টা করা। অস্টিওপোরোসিজনিত ঝুঁকি কমাতে নারীদের জীবনব্যাপী সচেতন থাকতে হবে। কৈশোর থেকেই খাদ্যাভ্যাসের ব্যাপারে সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে, সচল থাকতে হবে। যথেষ্ট ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। কারও সময়ের আগে মেনোপজ হলে (যেমন অস্ত্রোপচার করে জরায়ু ডিম্বাশয় ফেলে দেওয়ার কারণে) অস্টিওপোরোসিসের চিকিৎসা নিন।


কোন গোলাপ কিসের প্রতীক

  ভালোবাসার ফুল গোলাপ। এটি ভালোবাসার ভাষা বুঝতে ও বোঝাতে পারে। তাই উপহার হিসেবে গোলাপেরই চাহিদা এখন সবার উপরে। লাল গোলাপ প্রেমের কবিতা আর গল...