Tuesday, December 22, 2020

নতুন করোনাটি দ্রুত ছড়ায়


করোনার প্রতিষেধক দেওয়া যখন পুরোদমে চলছে, তখনই লন্ডনসহ দক্ষিণ ইংল্যান্ডে অতি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে নতুন ধরনের করোনাভাইরাস; যার জেরে যুক্তরাজ্যে আবার শুরু হয়েছে লকডাউন। ইউরোপের অনেক দেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিমান পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে। ব্রিটিশ সরকারের সংক্রমণবিষয়ক উপদেষ্টারাও মোটামুটি নিশ্চিত যে এটা করোনাভাইরাসের অন্য ভ্যারিয়ান্টের তুলনায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মূলত তিনটি কারণে করোনাভাইরাসের নতুন এই ভ্যারিয়ান্ট সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছেএটি ভাইরাসের অন্য সংস্করণগুলোকে প্রতিস্থাপিত করছে, এর বিভাজন বা রূপান্তর ভাইরাসের কিছু অংশে পরিবর্তন আনে, যা গুরুত্বপূর্ণ এবং এসব বিভাজনের মধ্যে বেশ কিছু ল্যাবে পরীক্ষার পর দেখা গেছে, এগুলো মানুষের দেহের কোষকে সংক্রমিত করার ভাইরাসের সক্ষমতা বাড়ায়।

নতুন স্ট্রেইনটি উপযুক্ত পরিবেশ পেলে দ্রুত হারে ছড়িয়ে পড়তে পারে, যেমনলন্ডনের মতো জায়গা, যেখানে এর আগে পর্যন্ত দ্বিতীয় স্তরের বিধি-নিষেধ ছিল। ভাইরাসটির সংক্রমণ কমিয়ে আনতে এরই মধ্যে চতুর্থ পর্যায়ের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের কভিড-১৯ জেনোমিকস কনসোর্টিয়ামের অধ্যাপক নিক লোমান বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক পরীক্ষা চালাতে হবে। তবে আমাদের হাতে সময় কম।

সেপ্টেম্বরে প্রথম ভাইরাসের নতুন ধরনটি শনাক্ত হয়। নভেম্বরের দিকে লন্ডনে আক্রান্তদের মধ্যে চার ভাগের এক ভাগ ছিল নতুন বৈশিষ্ট্যের এই ভাইরাসের শিকার। আর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এটি দুই-তৃতীয়াংশে পৌঁছে। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন যা বলেছেন সেটি হচ্ছে, এই বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসটি ৭০ শতাংশ বেশি ছড়িয়ে পড়ে। ধারণা করা হচ্ছে, ভাইরাসের এই স্ট্রেইন যুক্তরাজ্যেই কোনো একজন রোগীর দেহে আবির্ভূত হয়েছে কিংবা এমন একটি দেশ থেকে এসেছে, যেখানে ভাইরাসটিকে পর্যবেক্ষণ করার মতো তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। ভাইরাসটির জেনেটিক কোড নিয়ে কাজ করা নেক্সটস্ট্রেইন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, ডেনমার্ক অস্ট্রেলিয়ায় যে ভাইরাসের স্ট্রেইনটি পাওয়া গেছে তা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে। নেদারল্যান্ডসেও নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাস পাওয়া গেছে। চীনের উহানে যে ভাইরাসটি প্রথমে শনাক্ত করা হয়েছিল, সেটির সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য স্থানে থাকা ভাইরাসের কোনো মিল নেই। ভাইরাসটিতে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। নতুন বৈশিষ্ট্যের ভাইরাসটির ক্ষেত্রে টিকা কাজ করবে কি না তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভাইরাসটির স্পাইক প্রোটিনে পরিবর্তন এসেছেএটা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এর মাধ্যমেই ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢোকে। সূত্র : বিবিসি, ডয়চে ভেলে।

 

No comments:

Post a Comment

six seasons

  There are six seasons in Bangladesh. Each season has its special feature. Dew drops fall at night during in winter. The spring is the king...