Thursday, December 24, 2020

ডিঙা

 

 ‘রূপসার ঘোলা জলে হয়তো কিশোর এক সাদা ছেঁড়া পালে

ডিঙা বায়— রাঙা মেঘ সাঁতরায়ে অন্ধকারে আসিতেছে নীড়ে’

কবি জীবনানন্দ দাশ তাঁর ‘আবার আসিব ফিরে’ কবিতায় এভাবে ডিঙা শব্দটি উচ্চারণ করেছিলেন। ডিঙা হচ্ছে ছোট এক ধরনের নৌকা। সাধারণভাবে ডিঙা হিসেবে যেসব নৌকাকে চিনি সেসব নৌকায় ছাউনি থাকে না। এই নৌকা প্রধানত মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত হলেও প্রয়োজনে এর নকশা পরিবর্তন করে নানাভাবে ব্যবহার করা যায়। এই নৌকাই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। কাঠে নির্মিত এই নৌকা সমুদ্র ছাড়া সব ধরনের জলাশয়ে চলে। নদী পারাপারে একেই খেয়া নৌকা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মালপত্র পরিবহনে এই নৌকা ব্যবহার করে। বেদে সম্প্রদায়ের বহরেও এই নৌকা থাকে। বেদে বহরের ডিঙাগুলোতে অবশ্য ছাউনি বা ছই থাকে। কোষা নৌকার মতোই এর দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ৯-১০ মিটার হয়ে থাকে। তবে এর গলুই কোষা নৌকার মতো ভোঁতা নয়। কিছু ডিঙা নৌকায় বিশেষ ব্যবস্থায় কুমাররা মাটির হাঁড়ি-পাতিল সাজিয়ে বিক্রি করে। সে ধরনের ডিঙাকে সরঙ্গা বলে।

এই নৌকা বৈঠা দিয়ে চালানো হয়। অগভীর জলে লগিও ব্যবহার করা যায়। কখনো কখনো পাল তোলা ডিঙা দেখা যায়। এ ছাড়া নদীতে গুণটানা ডিঙিও দেখা যায়।

মাছ ধরার জন্য ছোট ডিঙা নৌকা ছাড়াও বড় নৌকা ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে পদ্মা নদীতে ইলিশ মৌসুমে এই নৌকা ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এজাতীয় কিছু নৌকায় দীর্ঘ সময় ধরে জেলেরা নদী বা বিলে কাটায়। এ কারণে বৃষ্টি বা রোদ থেকে রক্ষা পেতে মজবুত ছই থাকে। একই কারণে এই নৌকায় রান্নার ব্যবস্থাও থাকে। ভারী জাল ও মাছ বহন করার উপযোগী করার জন্য এই নৌকায় মাল বহন করার ক্ষমতা সাধারণ ডিঙার চেয়ে বেশি হয়ে থাকে। থাকে পাল তোলার ব্যবস্থাও। বেশির ভাগ সময় স্বল্প দূরত্ব অতিক্রম করার জন্য এই নৌকায় সাধারণ বৈঠা ব্যবহার করা হয়। স্রোতের প্রতিকূলে চলার জন্য বা দ্রুত চলার জন্য দাঁড় অর্থাৎ বড় বৈঠা ব্যবহার করা হয়।


 

No comments:

Post a Comment

কোন গোলাপ কিসের প্রতীক

  ভালোবাসার ফুল গোলাপ। এটি ভালোবাসার ভাষা বুঝতে ও বোঝাতে পারে। তাই উপহার হিসেবে গোলাপেরই চাহিদা এখন সবার উপরে। লাল গোলাপ প্রেমের কবিতা আর গল...